‘ফুটবল ঈশ্বর’ ম্যারাডোনা’র মৃত্যুতে আর্জেন্টিনায় তিনদিনের শোক

সমাহিত হবে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে

চিরতরে চলে গেলেন আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বুধবার (২৫ নভেম্বর) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাসায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬০ বছর।

আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিষয়ক দৈনিক ‍‘ওলে’ ম্যারাডোন‘র মৃত্যুর দুঃসংবাদটি সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নভেম্বরের প্রথম দিকে মস্তিস্কে রক্তজমাট বাঁধার কারণে অস্ত্রোপচার হয়েছিল ম্যারাডোনার। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার দুই সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হলো।

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও, ডাক্তাররা বলেছিলেন আশাতীত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও মাদকাসক্তির কারণে তাকে বাড়িতে নয়, পাঠানো হয়েছিল বুয়েন্স আয়ার্সের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। এরপর তাকে নেয়া হয় নিজের বাড়ি তিগ্রেতে। সেখানেই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই কিংবদন্তি।

এদিকে কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন সরকার। এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফারনান্দেস এক শোকবার্তায় প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি শুধু আমাদের আনন্দই দিয়েছেন। আমরা তার কাছে ঋণী। রাজ্যের সব দুয়ার দিয়েগোর জন্য খোলা।’

জানা গেছে, ফুটবল জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে সমাহিত হবেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় কাসা রোসাদায় ‘ফুটবল ঈশ্বর’কে শেষ বিদায় জানানো হবে। করোনা মহামারিতে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে অনুষ্ঠানটি।

প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ পরিবারের সম্মতি নিয়ে জানান, কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে সমাহিত করা হবে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যানশনে।

উল্লেখ্য, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার খ্যাত ম্যারাডোনা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি প্রায় একাই। ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের লানুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন ম্যারাডোনা। শৈল্পিক ফুটবল দিয়ে কিশোর বয়সেই নজর কাড়েন ম্যারাডোনা। মাত্র আট বছর বয়সে যোগ দেন আর্জেন্টিনার যুব দলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি প্রায় একাই। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন ম্যারাডোনা। তবে সেবার আর বিশ্বকাপ ছোঁয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে বুটজোড়া তুলে রাখেন ম্যারাডোনা।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।