সরিষাবাড়ীতে আ. লীগে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দু’গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমত আলী বাদি হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুনসহ ৩২ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় বঙ্গবন্ধুর ছবি ও গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজয় দিবসকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে তারাকান্দি শহিদ মিনার চত্বরে বিজয় মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিলো। একই সময় যুবলীগের একটি গ্রুপ আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যমুনা সার কারখানা গেটপাড় এলাকায় প্রবেশ করে।

এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গুলি বর্ষণসহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে রামদা, হকিস্টিক, দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রের অস্ত্রের মহড়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় কয়েক রাউণ্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে তারাকান্দি শহিদ মিনার চত্বরের বিজয় মঞ্চ ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও মালামাল লুটতরাজের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকালে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলামসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া উভয়পক্ষের আরো অর্ধ শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমত আলী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুলের ইসলামের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর, গুলিবর্ষনসহ বঙ্গবন্ধুর ছবি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগে দাবি করেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনারে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। এসময় একটি পক্ষ মিছিল নিয়ে বিনা কারণে সেখানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কয়েক রাউণ্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে আল মামুন, আবুল, ঠান্ডু, মিজান, হাফিজুর, সাকিব, সাত্তার ও স্বপন গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাকারীরা গফুর, নুর নবী, কালাম, সুমন, সেলিম ও দিলসাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও মালামাল লুটতরাজ করে নিয়ে যায়। এসময় তারা কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মো. ফজলুল করীম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।