পলাশবাড়ীতে ছাত্রলীগের রাজনীতি আর ছাত্রনেতার নেতৃত্ব

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক রাজনীতি ও ছাত্র রাজনীতির দায়িত্ব ও নেতৃত্ব কি হওয়া উচিৎ ছিলো তা অর্থের কাছে নতুজানু এক বিষয়। অর্থ ও শক্তিই যেন এখানে সাংগঠনিক নেতা নির্ধারণের মূলমন্ত্র হিসাবে দাড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে একাধিক অসাংগঠনিক অবিযোগ থাকার পরেও কথিত ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে কমিটি গঠনের পায়তারা চলমান রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে ।

গত এক যুগ ধরে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবস্থা সংকটপূর্ণ। কর্মী বান্ধব আদর্শিক নেতা বা আর্দশিক কর্মী গড়ে তুলতে পুরোপুরি ব্যর্থ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাগণ। তারা সব সময় সাংগঠনিক নেতৃত্বের বদলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কে প্রাধান্য দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের দায়সারা ও সুপারিশকৃত কমিটি প্রদান করায় আদর্শিক নেতার বদলে হটাৎ নেতা হয়ে যান অনেকেই। এ সকল নেতাদের বিরুদ্ধে পারিবারিক ভাবে জামাত বিএনপির রাজনীতি সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের পাশাপাশি নানা বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এদের কারো বিরুদ্ধে মাদকের সাথে সম্পৃত থাকায় ,কারো বিরুদ্ধে চাদাবাজির মামলা,কারো বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে অপমান অপদস্ত করার অভিযোগ সহ নানা অসাংগঠনিক অভিযোগ ছিলো মুখে মুখে । তার পরেও সেই সব ছাত্রলীগের কথিত নেতাদের সমন্বয়ে পৌর নির্বাচনে দায়িত্বপালনে কমিটি প্রদান করা হয়েছে তাদের ভূমিকা ছিলো সন্দেহজনক ।

তারা নির্বাচন কালিন সময়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে আতাত করে বর্তমান সময়ে সেই বিদ্রোহী নির্বাচিত মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের চিহিৃন্ত ও নিবেদিত পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দলীয় নেতাকর্মীদের হেয় প্রতিপন্ন করার পায়তারা করছে । অপর দিকে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পরাজয় ও নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকান্ড বিশ্লেষণে এক মতবিনিময় সভায় নৌকা মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পরাজয় দায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গুটি কয়েক ব্যক্তিকে অপরাধি হিসাবে চিহিৃন্ত করে নৌকার পরাজয়ে জন্য দায়ী করা হয়েছে । অথচ পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদকসহ কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় না করার অভিযোগ থামা চাপা দিয়ে উল্টো পৌর এলাকার ওয়ার্ডে নির্বাচিত সভাপতি সম্পাদক কে দোষী সাবস্থ্য করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু নির্বাচন পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজের তিনতলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে পৌর নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বক্তারা নৌকা মনোনীত প্রার্থীর সমন্বয়হীনতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা । তাদের সমালোচনা উত্তরে নৌকা মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু বকর প্রধান বলেন ,পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করা অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নামে দায়েরকৃত নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের ব্যাখা প্রদান করেন ।

তিনি এসময় নির্বাচনে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের সাক্ষী হিসাবে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মকান্ডের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন প্রতিদিন নির্বাচন কালিন সময়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পিছে ২২ হাজার টাকা ব্যয় করার কথা উল্লেখ্য তিনি ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন,ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়েছেন । তাদের কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন নৌকা মনোনীত প্রার্থী। তবে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের দায়সারা ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। এছাড়াও মহিলা আওয়ামলীগের নির্বাচনে কার্মকান্ডের কড়া সমালোচনা করেন নৌকা মনোনীত প্রার্থী ।

কিন্তু নৌকা মনোনীত প্রার্থী ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সন্তোষ প্রকাশ করলেও ছাত্রলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পৌরবাসী ভালো ভাবে নেয়নি। যার কারণে এ নির্বাচনে ঘরে ঘরে যদিও ছাত্রলীগের কথিত নেতাকর্মীরা গেলেও তাদের সাধারণ ভোটাররা সাংগঠনিক কর্ম তৎপরতা ভালো চোখে গ্রহন করতে পারেনি একারণে নৌকা সর্মথিত প্রাথীর পরাজয়ের মূলকারণ হিসাবে চিহিৃন্ত হয়েছে। এরপরেও সেইসব ছাত্রনেতাদের উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছে স্থানীয় একাধিক আওয়ামলীগ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের বর্তমান নেতারা।

ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকমীরা বলেন , পৌর নির্বাচনে নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে গুটি কয়েক নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ নির্বাচনী মিছিল ও গণসংযোগ করায় নিজ দলের অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশ সৃর্ষ্টি হয়েছে একারণে তারা নৌকা মনোনীত প্রার্থী মুখি না হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মুখি হয়ে পড়েছেন । তার ফলশ্রতিতে নৌকা প্রার্থীর পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় হয়েছে। এসকল নেতাকর্মীরা আরো বলেন, এই উপজেলায় প্রায় এক যুগ ধরে কথিত নেতাদের অযাচিত দাবী আদায়ের কারণে এই ছাত্রসংগঠনের সঠিক নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। বর্তমান সময়ে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে তৃণমূল পর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে কমিটি প্রদানে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।