মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বঙ্গবন্ধু

এম. কে. দোলন বিশ্বাস

মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বঙ্গবন্ধু
।। এম. কে. দোলন বিশ্বাস।।

আজ ১০ জানুয়ারি ২০২১ সাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ ৯ মাস অর্থাৎ ১৯০দিন কারাবাস শেষে পাকিস্তানের কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বেলা ১টা ৪১ মিনিটে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কোটি জনতার প্রিয় সংগঠক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে  প্রত্যাবর্তন করেন। লাখো বাঙালি উৎসবের আনন্দে এদিন প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রা। সেই থেকে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

পূর্ব ইতিহাস : পলাশীর আম্ররকানন প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার প্রায় দুইশত বছর পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত দুটি রাষ্ট্র নতুনভাবে পথচলা শুরু করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে ‘পূর্ব পকিস্তান’ নামে বাংলাদেশের পথচলা প্রথম থেকেই বাংলার জনগণ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। ফলে ১৯৫২ সালের মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। সালাম, বরকত, রফিক, জুব্বার, উলিউল্লাহর জীবনের বিনীময়ে আমরা ফিরে পাই রাষ্ট্রভাষা বাংলা। পরবর্তীতে চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্নর আইয়ুব খানের মার্শাল ‘ল’ বিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির কুখ্যাত হামুদুর রহমান শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু। এরপর তার নেতৃত্বেই ঐতিহাসিক ছয় দফা, ঊনসত্তুরের গণঅভ্যূত্থান, সত্তুরের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন- এর ফলে বাঙালীরা বাংলার স্বাধীনতার চূড়ান্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখতে শুরু করেছিলেন।
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে পাকিস্তানিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যখনই গড়িমসি শুরু করলো, তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান জানাতে দিক-নির্দেশনামূলক জাতির উদ্দেশে লাখো জনতার সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ কালো রাতে হঠাৎ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যায়। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার বিজয় সূচিত হয়। জন্ম নেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
গ্রেফতার ও পাকিস্তান করাগারে বঙ্গবন্ধু : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। উদ্দেশ্য সফল করতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালির উপর বর্বরোচিত অতর্কিত হামলা চালায়। এতে হাজারো মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার সবজু মাটি। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের ওই অভিযানের শুরুতেই পাকিস্তানি হানাদাররা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসতে বলা হয়। তা না হলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু বাঙালির অধিকার ছাড়া তিনি কোনো কিছু মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের নির্জন-অন্ধকার কারাগারে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিচার। এতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতা, মুক্তির প্রশ্নে ফাঁসির আসামি হয়েও বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিচল, আপসহীন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি ও প্রহসনের বিচার বন্ধ করতে প্রবল বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে স্বৈরাচার পাকিস্তানি সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি।
বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার বিশ্ব : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও বাঙালি জাতির মনে ছিল না স্বস্তি, বিজয়ের আনন্দ। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী জাতির পিতার ভাগ্যে কি আছে? এ নিয়ে এ ভূখেণ্ডের প্রতিটি মানুষ ছিল বিচলিত, আতঙ্কিত। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা পাকিস্তানি জান্তার সরকারের বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
পাকিস্তানের কারাগারে গোপনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সকল প্রকার আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ওই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির জন্য পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে চাপ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বের ৬৭টি দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিঠি দেন। অন্যদিকে, তিনি ইউরোপের ৫টি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করে বিশ্বজনমত বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অনুকূলে আনতে সক্ষম হন। ফলে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি।শেষ পর্যন্ত বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়।
যেভাবে দেশে এলেন : বাঙালি জাতির মহান এক বিজয়ের ফলেই বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত মৃত্যুর কবল থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ফিরে আসেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের একটি সামরিক বিমানে অতিগোপনে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই বিমানে আরও ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও তার পরিবার। লন্ডনে সময় তখন ভোর ৮টা ৩০ মিনিট, ৯ জানুয়ারি।  ৮ জানুয়ারি সকাল ৭টায় বিবিসি’র ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে প্রচারিত খবরে বলা হয়- ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিমানযোগে লন্ডনে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।’ 
বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর বিমান থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু ভিআইপি লাউঞ্জে আসলে তাঁকে ব্রিটিশ বৈদেশিক দফতরের উপস্থিত কিছু কর্মকর্তা স্বাগত জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে ব্রিটিশ ফরেন অফিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা স্যার ইয়ার মাদারল্যান্ড উপস্থিত হয়ে জানান ব্রিটিশ সরকার বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিয়েছেন। সকাল ৮টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুকে ব্রিটিশ সরকারের সম্মানিত অতিথি হিসেবে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ক্যারিজেস হোটেলে নিয়ে আসা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) হ্যারল্ড উইলসন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে বলেন ‘গুড মর্নিং মিস্টার প্রেসিডেন্ট।’
বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতির কথা জেনে হাজার হাজার বাঙালী ক্যারিজেস হোটেল ঘিরে ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে। দুপুরের দিকে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন ‘এক মুহূর্তের জন্য আামি বাংলাদেশের কথা ভুলিনি, আমি জানতাম ওরা আমাকে হত্যা করবে, আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবো না, কিন্তু আমার জনগণ মুক্তি অর্জন করবে।’
রেসকোর্স ময়দানে সংবর্ধনা : বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশগড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
১০ জানুয়ারির ভাষণ : বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১০ জানুয়ারির প্রায় ১৭ মিনিট জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। বাংলাদেশের আদর্শগত ভিত্তি কী হবে, রাষ্ট্র কাঠামো কী ধরনের হবে, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যারা দালালি ও সহযোগিতা করেছে তাদের কী হবে, বাংলাদেশকে বহির্বিশ্ব স্বীকৃতি দেয়ার জন্য অনুরোধ, মুক্তিবাহিনী, ছাত্র সমাজ, কৃষক, শ্রমিকদের কাজ কী হবে, এসব বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধু বিদ্রোহী কবির মতোই অনেকটা আবেগপ্রবণ ছিলেন। ১০ জানুয়ারি তাঁর আবেগনির্ভর হওয়া অস্বাভাবিক ছিল না। তবুও একথা বলতে ভুল করেননি যে, ‘বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। কিন্তু আজ আমাদের সামনে অসংখ্য সমস্যা আছে, যার আশু সমাধান প্রয়োজন। বিধ্বস্ত বাংলাকে নতুন করে গড়ে তুলুন। নিজেরাই রাস্তা তৈরি করতে শুরু করুন। যার যার কাজ করে যান।’
ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আদর্শ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’ যাদের প্রাণের ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেদিন  প্রাণের আবেগমাখা ওই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার শুরুতে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘স্মরণ করি আমার বাংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, সিপাই, পুলিশ, জনগণকে, হিন্দু, মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের আত্মার মঙ্গল কামনা করে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমি আপনাদের কাছে দুই একটা কথা বলতে চাই।’
আমরা আজ স্বদেশ প্রত্যাবর্নতন দিবসে মুক্তিযোদ্ধে শহীদসহ অংশ গ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, স্মরণীয় এই দিনে মহাননেতা বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু সেদিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেছিলেন যে, ‘তাঁর সারাজীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেয়া হবে না।’ আমরা যতদিন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা-সংগ্রামের আদর্শে অনুপ্রাণিত থাকবো, ততোদিন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন। এদিনে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেই শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
আমরা পরিশেষে বলতে চাই, টেকসই গণতন্ত্র কায়েমসহ কোনো ধরণের অপশক্তি যাতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
[এম. কে. দোলন বিশ্বাস, দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক]
dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।