জন্মনিবন্ধন ভোগান্তি চরমে, প্রচলিত নিয়ম সংস্কার দাবি

সন্তানের জন্মনিবন্ধন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের সাধারণ জনগন। জানুয়ারি ২০২১-এর প্রচলিত নিয়মে তথ্য উপাত্যই এজন্য দায়ী বলে দাবী সচেতন মহলের।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে  গিয়ে দেখা যায়, অভিভাবকদের গণ জমায়েত ও হট্টগোল। হঠাৎ কেন জন্মনিবন্ধনের এতো চাপ— এ বিষয়ে ১৩ নং চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ আকলিমা বেগম বলেন, সরকার এখন প্রতিটা শিক্ষার্থীর জন্য বিভিন্ন সুযোগ- সুবিধা দিয়ে আসছেন। তাই জন্মনিবন্ধন বিষয়টা হলো লিগ্যাল পয়েন্টে থাকার জন্য। একটা বাচ্চা সে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে তার একটা অধিকার আছে সে অধিকার থেকে যাতে বঞ্চিত না হয়। তার জন্মনিবন্ধন, বাবা-মার জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নাম্বার এগুলো বৈধতার জন্যই। সে আসলে লিগ্যাল শিক্ষার্থী কিনা, সে শিক্ষার্থী ওই বাবা-মার সন্তান কিনা, একই বাচ্চা একাধিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে একাধিক সুবিধা নেয় কিনা; সর্বোপরি প্রকৃত ছাত্র-ছাত্রী যাচাই করার জন্যই শিশু শ্রেণি হতেই জন্মনিবন্ধন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জন্মনিবন্ধন ব্যাতিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি অনিশ্চিত বিধায় অভিভাবকরা ভিড় জমাচ্ছেন নিজ নিজ ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পড়ছেন নানা জটিলতায়। দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য কেন্দ্র, তথ্য কেন্দ্র থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে ঘুরে মানসিক, আর্থিক ও সময়ের ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে নিবন্ধন তৈরি ও শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না করাতে পেরে হতাশায় ভোগছেন হাজারো অভিভাবক।

গত ১৪ জানুয়ারী সরিষাবাড়ী উপজেলার ২নং পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অভিভাবকদের ভিড় ও হট্টগোল। বারবার বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্ঠায় ব্যর্থ হচ্ছেন তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তা সোলায়মান কবির।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা সোলায়মান কবির বলেন, ইতিপূর্বে কোনো সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে হলে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও আনুসাঙ্গিক তথ্য হলেই নিবন্ধন করা যেত। কিন্তু গত ১ জানুয়ারী হতে সরকার জন্মনিবন্ধন বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য বাধ্যতামুলক করেছেন।

যেমন- ইপিআই (টিকা) কার্ড, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্ড বাধ্যতামুলক, বাসার হোল্ডিং নাম্বার ও চৌকিদারি দাখিল, আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার, ফরমের সাথে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়ন, শিক্ষা যোগ্যতার সনদসহ বিভিন্ন আনুসাঙ্গিক তথ্য।

সে ক্ষেত্রে উল্লেখিত নিয়মের ২নং বিষয় পিতা-মাতার জন্মনিবন্ধন অনলাইন জটিলতাই প্রকটভাবে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শতকরা ৯৫ ভাগ অভিভাবক এই ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন।

জানা গেছে, আমাদের দেশে ২০০৬ সালে জন্মনিবন্ধন বিধান ও ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র বিধান চালু হয়। তার পূর্বে নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছিলো না। ইতিপূর্বের প্রায় ৯০ ভাগ নাগরিকের জন্মনিবন্ধন নেই, পরবর্তীতে শুধু জাতীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

সেক্ষেত্রে শিশুর জন্মনিবন্ধন করতে হলে ওই সকল পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধন আগে করতে হবে।

তাহলে সে ক্ষেত্রে তার (পিতা-মাতার) জন্ম সনদ/মৃত্যু সনদ লাগবে। মৃত হলে অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন করতে পারলেও জীবিতদের অনলাইন জন্মনিবন্ধন আদৌ সম্ভব নয় বিধায় সকল তথ্য দিয়ে শিশুর জন্মনিবন্ধন করা জটিলতা দেখা যাচ্ছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুসারে জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব নয় বিধায় ২নং নিয়মের দ্রুত সংস্কার দাবী সচেতনমহলের।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।