জামালপুরে আকরাম বাহিনীর হামলায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সিয়াম

জামালপুরের ঢেংগারগড়ে আকরাম বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় বাম পা ভেঙে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে গেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো: আবু হাসান সিয়ামের ভবিষ্যত। 
এই ঘটনায় রবিবার সিয়ামের বাবা জামালপুর সদর থানায় আকরাম হোসেনসহ ৮ জনের নামে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটি’র মেকানিক্যাল বিভাগের ১১তম পর্বের ছাত্র মো. আবু হাসান সিয়াম জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকার মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের ড. কাজী মোতাহার হোসেন হল শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন মো: আবুৃ হাসান সিয়াম।
১৫ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নে ঢেংগারগড় গ্রামে তার ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে।
সিয়ামের বাবা মো: আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার ঢেংগারগড়ের মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আমি সাধারন সম্পাদক এবং একই গ্রামের মো. নছর আলীর পুত্র মো. আকরাম হোসেন সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মসজিদ কমিটির একটি বিষয় নিয়ে আকরামের স্বজনদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। সেদিন বিকালে আমার ছেলে সিয়াম মোটরসাইকেল দিয়ে শহরের বাড়িতে ফিরছিলো। বাড়িতে ফেরার পথে ঢেংগারগড়ে আকরাম হোসেনের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য জনি ও রনিসহ আরো ৫ থেকে ৭জন সিয়ামের উপর হামলা করে। সকলে সিয়ামকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং তার মটরসাইকেলটি ভাংচুর করে।
এমন সময় স্থানীয় খুদেজা বেগম তাদের বাধা দিতে গেলে তার মাথায় আঘাত করে আকরাম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। খুদেজা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এবং সিয়াম জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
মো. আমিনুল ইসলাম আরো জানান, ‘আকরাম সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ছেলের পা ভেঙে গুড়ো করে দিয়েছে। সিয়ামের  জীবনটা শেষ করে দিয়েছে ওরা। সিয়াম চিকিৎসাধীন থাকায় এজাহার দায়ের করতে একটু দেরী হয়েছে। এই আকরামের সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে পুরো ঢেংগারগড় বাসী। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর কেউ যাতে এমন হামলার শিকার না হয়।’
আহত আবু হাসান সিয়াম বলেন, ‘আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে আকরাম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। আমার বাম পা ভেঙে ফেলেছে ওরা। আমি এই জীবনে হাটতে পারবো কি-না জানি না। আমার সুন্দর ভবিষ্যত শেষ করে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। শুধু আমি না আমার অনেক ছেলেকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে আকরামরা। অবৈধ ব্যবসা করে হাটের ডিম ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি এই আকরামের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে ঢেংগারগড়বাসীরা। আমরা এই আকরাম থেকে মুক্তি চাই।’
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান জানান, ‘ঢেংগারগড়ের ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে মো. আমিনুল ইসলাম। ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এদিকে শরিফপুর ইউনিয়নের ঢেংগারগড়ে সরেজমিনকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ঢেংগারগড়ের নছর আলীর ছেলে আকরাম হোসেন (৪০) পেশায় একজন ছোট ডিম ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ঢেংগারগড় বাজারে ডিম বিক্রি করতেন। ২০ থেকে ২৫ বছর আগে জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম চলে যায় আকরাম হোসেন। চট্টগ্রামে দিনমজুর থাকা কালে রহস্যজনকভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান আকরাম হোসেন। চট্টগ্রাম থেকে মাঝে মধ্যেই নিজ গ্রামে এসে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন তিনি। তখন থেকেই গ্রামের নিরীহ জনগনের জমি দখল, শারীরিক ভাবে মারধর ও মানসিকভাবে অত্যাচার শুরু করেন আকরাম হোসেন। তার এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কয়েকবার মানবন্ধন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে এলাকাবাসী। লিখিত অভিযোগের পর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আকরাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে এখনো কয়েকটি  মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা যায়। এলাকায় প্রতি বছর কয়েকবার মারামারির ঘটনা ঘটান তিনি। আকরাম হোসেনের এমন কর্মকান্ড এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
সিয়ামের উপর হামলার ঘটনায় আকরাম হোসেনসহ দোষীদের গ্রেফতার ও  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।
সন্ত্রাসী আকরাম হোসেন।
এসব বিষয়ে আকরাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাগান্বিত হয়ে উচ্চকন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এখন চট্টগ্রাম আছি। শুক্রবার দিন এলাকায় কি ঘটেছে আমি জানি না। আর আমি কিভাবে এতো টাকার মালিক হলাম সেটি আপনি খবর নিয়ে দেখেন। আমি বলতে পারবো না। আমি আপনাকে তো চিনি না। আপনাকে আমি এতো কথা কেনো বলবো? আপনি চট্টগ্রাম আসেন বা লোক পাঠায় দিয়ে দেখে যান যে আমি কি করি।’
dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।