সরিষাবাড়ীর ট্রিপল হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি ও একজনকে যাবজ্জীবন

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আলোচিত ফজল মেম্বারসহ চাঞ্চল্যকর ট্রিপল হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে জামালপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিন্নাত জাহান জুনু এই রায় ঘোষনা করেন।

১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার ৬নং আসামী মো. বেলাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০নং আসামী মো. হুরমুজকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। এছাড়া মামলার বাকি ১২ জন আসামীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বেলাল টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর থানার রামাইল গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. হুরমুজ চরশশুয়া গ্রামের মৃত চান মাহমুদ মন্ডলের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডে নিহত তিনজন হলেন— সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সদস্য ফজলু রহমান ওরফে ফজল মেম্বার, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার জোমার খুকশিয়া গ্রামের মৃত গাদু শেখের ছেলে ইউসূফ আলী ও নৌকার মাঝি কাজল গ্রামের মৃত হযরত আলী তালুকদারের ছেলে কুরবান আলী তালুকদার।

এ হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এড. আবুল কাশেম তারা জানান, যমুনা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর বিকালে সরিষাবাড়ী উপজেলার চর নলসোন্ধ্যা এলাকার গভীর যমুনা নদীতে চলমান নৌকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে উল্লেখিত তিনজনকে মো. বেলাল হোসেন ও তার লোকজন অপহরন করে।

অপহরনের পরই ফজল মেম্বারের স্ত্রী মোছা. সুরাইয়া খাতুন বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর কয়েকদিন পর ফজল মেম্বার ও ইউসূফ আলীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলার দুই জায়গা থেকে পাওয়া গেলেও নৌকার মাঝি কোরবান আলীর মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি।

এ আইনজীবী আরো বলেন, মামলা দায়েরের পর সকল আসামীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও একজন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় ঘোষনা করেন।

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ, বাদী ও নিহতদের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।