বকশীগঞ্জের দুই শিশুকে চোরের অপবাদ দিয়ে গৃহকর্তার নির্যাতন

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে দুই শিশু গৃহকর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গরম খুন্তির ছেঁকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে এক গৃহকর্তা। এছাড়া ঘটনাটি ঢাকার জন্য ইনজেশনের সুচ দিয়ে রক্ত বের করার অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত শিশু নাজিয়া (১১) ও তার ছোটভাই রনি (৮) বর্তমানে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা  বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামের হতদরিদ্র শাহাজাহান মিয়ার সন্তান।

নির্যাতনকারী গৃহকর্তা একই গ্রামের কফিল উদ্দিন মাস্টারের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম। তিনি সড়ক ও জনপথবিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বর্তমানে তিনি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সস্ত্রীক বসবাস করছেন।

এদিকে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে উল্টো নির্যাতিতাদের পরিবারকে পাষণ্ড গৃহকর্তা চুরির মামলার ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতিতাদের বাবা শাহাজাহান মিয়া জানান, তিনি অতিদরিদ্র মানুষ। তার অভাবের সুযোগে একই গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম তার ছেলে-মেয়েকে বছর খানেক আগে গৃহকর্মীর কাজ করাতে ঢাকায় তার বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু ৭দিন ধরে ছেলে-মেয়ে সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। অজানা আতঙ্কে বুধবার ঢাকায় যান তিনি। সেখানে গিয়ে নির্যাতনের কথা শুনে শিশু দুটিকে তিনি বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

বাড়ি এনে শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়। তাদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছেঁকা দেয়া হয়। তাদের বাড়িতে আনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বকশিগঞ্জ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম সওদাগর জনান, শিশু দুটোকে চিকিৎসার জন্য মানবাধিকার কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে। নির্যাতনকারী রিয়াজুলের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।