পচাবহলা জামেদ আলী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’ রোপণ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পচাবহলা জামেদ আলী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’ রোপণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর ইউনিয়নস্থ ওই মাদ্রাসা মাঠে রোপন করা হয় ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’।
দর্শণীয় স্থানে স্মারক বৃক্ষটি রোপণ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সুপার মো. ছামিউল হক, সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সরকার, রুবেল, রোজিনা আক্তার, আসাদুজ্জামান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম রসুল, কেরানি রুহুল আমীন প্রমুখ।
জানা যায়, মুজিব বর্ষকে স্মরণীয় রাখতে বৃক্ষ স্মারক রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি করে ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’ দর্শণীয় স্থানে রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়।
অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানদের মতোই উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’ রোপণ করতে একটি চারা গাছ নেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিনাডুলী ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম তার বসতবাড়ির পাশে ঝোপঝাড়ে মধ্যে আবর্জনাযুক্ত অদর্শণীয় স্থানে ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’  চারা গাছটি রোপণ করায় এ নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, লাগাই গাছ, বাঁচাই বন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক কোটি গাছের চারা রোপণ করা হয়। গত ১৬ জুলাই থেকে দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রতিটিতে ২০ হাজার ৩২৫টি করে গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রতিটি চারা গাছকে ‘স্মারক বৃক্ষ’ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করাও শর্ত দেয়া হয় সরকারি নিদর্শনায়।’
গত ১৬ জুলাই সকাল ১১টায় গণভবনে একটি তেতুল, একটি ছাতিয়ান ও একটি চালতা গাছ রোপণ করার মাধ্যমে ওই কমসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগের দিন ১৫ জুলাই এ বিষয়ে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন জানান, ‘জাতির পিতা এদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মুজিববর্ষে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের এ কর্মসূচির পঞ্চাশ শতাংশের বেশি থাকবে ফলজ গাছ।’ মন্ত্রী এ মহতি কর্মসূচি সফল করার জন্য সংসদ সদস্যরাসহ দেশের সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহায়তা কামনা করেন।
তিনি প্রতিটি গাছ রোপণের পর নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। প্রতিটি গাছের চারা স্মারক গাছ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি চারার দাম ৯ টাকা হিসাব করে মোট ৯ কোটি টাকা এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার করে মোট ১৬ লাখ গাছের চারা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সংসদ সদস্যদের জন্য।  চলতি বছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সব মিলিয়ে ৭ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘মুজিববর্ষ স্মারক বৃক্ষ’ দর্শণীয় স্থানে রোপণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।