যমুনা সার কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটি, ৪দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ

দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ৪দিন ধরে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

জেএফসিএল সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের বয়লারে লিকেজ দেখা দেয়। তারপর থেকে অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও ইউরিয়া উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে দ্রুত যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে চালু না হলে চলতি মওসুমে কারখানার কমাণ্ড এরিয়ায় সার সঙ্কট হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।

যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুদীপ মজুমদার জানান, পাওয়ার প্ল্যান্ট ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানার নিজস্ব প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটি সারাতে কাজ করছেন।

কারখানা স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনে যেতে কয়দিন সময় লাগবে তা তিনি বলতে না পারলেও চলতি মাসের শেষের দিকে সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য গত বছরের ৪ এপ্রিল কারখানা বন্ধ হয়েছিলো। একমাস বন্ধ থাকার পর ৩ মে ইউরিয়া উৎপাদন শুরুর তিনদিন পর ৭ মে ফের বন্ধ হয়। তারপর থেকে এতদিন কারখানায় উৎপাদন চালু হলেও শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আবারো বন্ধ হয়ে যায়।

কেপিআই-১ মানসম্পন্ন বিসিআইসির এ প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মে. টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষম হলেও এখন তা কমে ১ হাজার ৪০০-৫০০ মে. টনে নেমে এসেছে।

কারখানাটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় সারের চাহিদা পূরণ করে আসছে। দ্রুত যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে চালু না হলে কারখানার কমাণ্ড এরিয়ায় চলতি ইরি-বোরো মওসুমে সারের সঙ্কট হতে পারে।

এ ব্যাপারে কারখানার বিক্রয় বিভাগের ইনচার্জ ওয়ায়েছুর রহমান জানান, বর্তমানে কারখানায় নিজস্ব উৎপাদিত ৪৭ হাজার ৪৪৪.৩০ মে. টন ও আমদানিকৃত ১৯ হাজার ৪৯৮.৪০ মে. টন সার মজুদ রয়েছে।

এরমধ্যে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে কমাণ্ড এরিয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৬২.৪০ মে. টন। বিক্রি হয়েছে ২৩ হাজার ৯৫৩.৭০ মে. টন। এ মাসেই উৎপাদন চালু হলে সার সঙ্কট হবে না বলেও তিনি জানান।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।