কণিকা মির্জা কণা’র তিনটি কবিতা

কণিকা মির্জা কণা’র তিনটি কবিতা

 

(১) নষ্টা নারী

লজ্জা আমার অহংকার,

নিজেকে এই সমাজের কাছে কলঙ্কিত বলতে আমি ভালোবাসি,

নষ্টা নারীরাই প্রতিবাদীপক্ষের।

যদি কোনো নারী নিজের দুঃখ, দৈন্য, দুর্দশা থেকে-

মুক্তি পেতে চায় ধর্মে ও রাষ্ট্রে,

কোনো নারীসমাজের নোংরা নিয়মের বিরুদ্ধে

যদি রুখে দাঁড়ায়,

যদি কোনো নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ হয়

তবে তাকে নষ্ট বলে সমাজের ভদ্রলোকেরা।

নারীর জন্য কেবল আছে- ‘না’!

বিভিন্ন রকম ‘না’!

হাসলেও ‘না’, কাঁদলেও ‘না’, উচ্ছ্বাসেও ‘না’!

এটা ‘না’,  সেটা ‘না’, নারীর জন্য হরেক রকম ‘না’…

যেন কোনো ইচ্ছেই থাকতে পারে না!

তাই নারী শুদ্ধ হওয়ার প্রথম শর্ত ‘নষ্ট হওয়া’;

পুরুষের চোখে তথাকথিত সেই ‘নষ্ট. না হলে-

কোনোদিনও সমাজের নাকপাশ থেকে নারীর মুক্তি নেই

সেই প্রতিবাদী নারী

সমাজ যাকে বলে, ‘নষ্টা নারী’।

(২) একান্তে হোক দেখা

একটি কবিতা শুনতে চাই আজ

তুমি কি পাশে বসে শোনাবে একটা কবিতা?

ব্যক্তিগত ইচ্ছে হয়ে ওঠার কবিতা…

স্পর্শহীন ভালোবাসার মতো-

আমার সাথে তোমার কবিতার সম্পর্ক পাতাবো বলে।

তোমাকে ভালবাসি

এ কথা বারবার বলতে চাই।

বলতে চাই, এ আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে,

তোমাকে ছুঁতে চাই দু হাত বাড়িয়ে

বারবার তোমার মাঝেই হারিয়ে যেতে।

এই বাহুতে বারবার চাই তোমাকে

জানুক সবাই, তোমাকেই ভালবাসি।

তুমিই মোর ভালবাসার উষ্ণ রবি, অনন্ত প্রেম হয়ে-

ধরা দিয়েছিলে আমার কবিতার মাঝে।

সেই কবিতা আমার হৃদয়পটে আঁকা

হতে পারে আমি খুব একা,

হতে পারে আমি খুব করে চাচ্ছি-

কারো সাথে একান্তে হোক দেখা।

সেই কেউটা তোমার মতন অন্যরকম

হাত বাড়ালেও হাত ছুঁবে না যখন তখন।

কেমন যেন রহস্যময় অন্যধারা

এই বুঝি তো সেই বুঝি না- ছন্নছাড়া,

কথায় কথায় পথ ভুলিয়ে অন্য পথে

সব ভুলিয়ে সব বুঝে নেয় ইশারাতে!

সেই কেউটা কেমন যেন দস্যিপনা

জলে টানবে, জলে নামবে; ডুব দেবে না।

চাই না তারে তবুও কেমন খুব করে চাই

বুকের মাঝে বাজায় বাঁশি অন্ধ কানাই

ঘর ছেঁড়ে যে ঘর বাঁধবো তারই সাথে

তার হাতও কি বন্দি আছে অন্যহাতে?

(৩) আকাঙ্ক্ষা

একসমুদ্র হাসি ছিল তোমার একমাত্র উত্তর

যার জলে ভেসে গেছে আমার বসন্ত

বিচরণ ছিল সহস্র কোটিবার, শতবছরের পরিচয়ে-

যুগ-যুগান্তর ধরে কত কথা।

ভালবাসি তোমার অনাবিল হাসির রক্তে

দগ্ধ লাল ঠোঁট

যেখানে চুম্বন করে মহাশূন্যের নীলজ্যোৎস্না,

ভালবাসি তোমার নিভৃতে লুকানো হাসি।

আমায় কেন বসে রাখো আক্ষেপের অন্তরালে?

কথার গুচ্ছ থমকে আছে নিরন্তর পথে…

দুরন্ত বাতায়নে জাগ্রত এই প্রাণ

আমায় কেন অপেক্ষায় রাখো জনসমুদ্রের ভীড়ে?

ইচ্ছেরা আজ মিলছে ডানা,

নীল অফুরান…

কুয়াশার চাদরে আবরণ আদিগন্ত

সবুজ সজীবতায় স্বচ্ছতার স্পর্শে

স্বপ্ন ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা আজ ভীষণ দুরন্ত

হ্নদয়ের এ কেমন দুর্বল দুরাশা!

যেন অভিশপ্ত প্রাণে প্রেতাত্মার পিপাসা…

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।