নবতানের কথিত দুই সাংবাদিক ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজিকালে গ্রেফতার

জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে প্রকাশিত (ডিক্লারেশন বাতিলকৃত) দৈনিক নবতান পত্রিকার কথিত সাংবাদিকরা একের এক চাঁদাবাজির দায়ে গ্রেফতার হচ্ছে। সোমবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজিকালে নবতানের দুই ভুয়া সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলো— জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বানিয়াবাজার গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে আবু খাঁ’র ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪৫) ও পাঁচপয়লা (ঘোনাবাড়ি) গ্রামের আবু তাহের মণ্ডলের ছেলে আব্দুল হাকিম মণ্ডল (৪৪)।

উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রাম থেকে এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ‘দৈনিক নবতান’ পত্রিকার মেলান্দহ প্রতিনিধি পদের দুইটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

থানা পুলিশ জানায়, সোমবার বিকালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই দুই প্রতারক তারতপাড়া গ্রামের ঋষিপাড়ায় মধু রবিদাসের স্ত্রী বুধিয়া রানীর বিরুদ্ধে মদ তৈরির অভিযোগ তুলে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখালে দরিদ্র বুধিয়া রানী তাদেরকে এক হাজার টাকা দেন। তারা আরো চার হাজার টাকার জন্য চাপপ্রয়োগ করলে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ হয়।

এসময় স্থানীয় লোকজন প্রতারকদের আটক করে নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ মাস্টারের বাড়িতে নিয়ে যায়। গণপিটুনির ভয়ে প্রতারকরা পরে নিজেদের নবতান পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন বিট পুলিশিং কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুজ্জামান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে— ঈদ উপলক্ষে তারা টাকা দিয়ে দৈনিক নবতান নামের অখ্যাত পত্রিকার কার্ড সংগ্রহ করে। তারপর যোগসাজশে কখনো সাংবাদিক, কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্নস্থানে তারা চাঁদাবাজিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল।

ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমন মিয়া জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে রাতেই থানায় চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অভিযোগ রয়েছে, একই পরিবারের কয়েক সদস্য মিলে দৈনিক নবতান পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। পত্রিকাটির সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন ইতোপূর্বে মানহানি মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর জেলহাজত খাটে। সম্পাদকের নৈতিক স্খলনজনিত কারণে জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল করে যান। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পত্রিকাটি ছাপা ও নানা অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে তারা।

সম্পাদকের বড়ছেলে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পরিচয়ধারী সায়েম শিমুল ইয়াবা টেবলেটসহ পুলিশের হাতে আটক ও জেলহাজত বাস করে। সম্পাদকের ভাতিজা তারেক হাসান অপর সহযোগী নিয়ে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতে শেরপুর সদর উপজেলার চরজঙ্গলদী দশানী বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক ও গণধোলাইয়ের শিকার হয়। পরে চাঁদাবাজি মামলায় সে দুইদফা হাজত বাস করে।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।