আহমেদ জামিলের নন্দিত উপন্যাস— বেলা অবেলার দশদিক

|| মৃধা আলাউদ্দিন ||

কবি, কথাশিল্পী ও দার্শনিক আহমেদ জামিলের লেখা উপন্যাস ‘বেলা অবেলার দশদিক’। এই উপন্যাস বাঁকে বাঁকে মোড় নিয়েছে। জীবন যে কতভাবে রঙ বদলায় তা এ উপন্যাসে দেখানো হয়েছে। আমরা সুখের আশায় বিদেশ ছুটি। ছুটে যাই পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সেই কাহিনীই তুলে ধরা হয়েছে আহমেদ জামিলের এ উপন্যাসে।
আলি আকবর অনেকের মতো জাহাজ থেকে নেমে এসেছেন। সে এখন স্বপ্ন দেখতে চায়। বাঁচতে চায়। অভাব দেখতে দেখতে আলি আকবর হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাই এই স্বপ্নের শহরে কীভাবে থাকা যায় সেই চিন্তা নিয়ে জাহাজ থেকে তার নেমে আসা।
হলুদ ট্যাক্সি খুঁজে বন্ধুর বাসার দিকে যাত্রা শুরু করলো আলি আকবর—যাতে এই দেশে থাকা যায়। কাজ করতে পারে। আলি আকবরকে বড়লোক হতে হবে। দারিদ্র্যতা ঘোচাতে হবে। ছেলেমেয়ে ও বউয়ের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। দেশে বাড়িঘর, জায়গা-জমি করতে হবে। পুকুর, ভিটেবাড়ি ও ধানি জমি কিনতে হবে—এইভাবে জীবনের এক জটিল অঙ্ক নিয়ে আহমেদ জামিল লেখা শুরু করেছেন তার প্রথম উপন্যাস বেলা অবেলার দশদিক।

২.
আমরা আহমেদ জামিলকে বলবো, আপনি উপন্যাসটাকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান। আপনার হাতে জাদু আছে। আপনি এ উপন্যাসটাকে একটা মাস্টার পিস তৈরি করুন। কেননা, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এই ধরনের লেখা খুব একটা বাংলা সাহিত্যে নেই। আপনার উপন্যাস পড়লে মানুষের অনেক অভিজ্ঞতা হবে দেশ-বিদেশ— ইউরোপ-আমেরিকা, সৌদি-কুয়েতের ধনকুবের সম্পর্কে।
একদিন আলি আকবর পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন। একটি মেয়ে তাকে বললো, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। আমাকে বিয়ে করলে তুমি এই দেশে থাকতে পারবে। সাধারণ অনেক মানুষের মতো আলি আকবরও লোভে পড়ে যায়। মেয়েটি যে তার সাথে চালাকি করছে তা আলি আকবর প্রথমে বুঝতে পারেনি।… এই ধরনের ফাঁদে পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষই পড়ে। আহমেদ জামিলের এই উপন্যাসটি পাঠ করলে পৃথিবীর সাধারণ মানুষজন নতুন করে কেউ আর বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে এই ধরনের ফাঁদে পড়বে না। বলা যায় আহমেদ জামিল একটি নতুন উপন্যাস লিখেছেন— বেলা অবেলার দশদিক।

৩.
এই উপন্যাসটি পড়লে বোঝা যাবে আমেরিকায় প্রথম প্রথম গিয়ে কী কী ধরনের বিপদে পড়তে হয়। এই উপন্যাসটি পড়লে আমাদের দেশের নতুন যারা যাবেন তাদের অনেক উপকার হবে। এই উপন্যাসে যেমন বিদেশের জীবনের কথা এসেছে ঠিক তেমনিভাবে বলা যায় দেশের বাড়িতে ছেলেমেয়ে, স্ত্রী কীভাবে চলছে— তাদের জীবনযাপন কীভাবে চলছে তাও তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে।
আহমেদ জামিল তার এই উপন্যাস লিখেছেন একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। বিদেশের মাটিতে লেখক যা যা দেখেছেন তা ঠিক সেভাবে লেখা হয়েছে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
এই বইটি পড়লে আমেরিকা চেনা সহজ হয়ে যাবে। চোখের সামনে ভেসে উঠবে বিশ্বটা।
আমরা কেন বিদেশ ছুটি। কতটুকু সুখ আছে আমেরিকার মাটিতে তা খুব নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে একটা বিষয় লক্ষ করা যায়, আমেরিকায় গেলেই যে সুখ হবে এমন কোনো কথা নেই। রাত হলে সকল স্থানেই রাত হয়। তাই এই উপন্যাসটি পড়লে জীবনের এদিগ-ওদিগ—অজানা গলির অনেক কিছু জানা হয়ে যাবে।

৪.
এই উপন্যাসে সাধারণ জীবনযাপন ও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা হলেও এটা একটা অসাধারণ—মাস্টার পিস বলেই আমরা মনে করি। জগৎ সংসারের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, আশা-আকাক্ষা, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন-স্বপ্নভঙ্গ এবং মানুষ জীবনের যাবতীয় চাওয়া পাওয়ার সমম্বয় সবই ঘটিয়েছেন কথাশিল্পী আহমেদ জামিল নায়ক আলি আকবরের মাধ্যমে।
জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আহমেদ জামিল লিখেছেন তার ‘বেলা অবেলার দশদিক’। আমরা মনে করি এই উপন্যাস আমাদের সবার পড়ার দরকার। প্রবাস জীবন নিয়ে নানা কথা আপনার জানা থাকলে সেখানে গেলে পদে পদে যে বাধা আসে তার সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলো এ উপন্যাস। তাই আমরা বলতে চাই এই ধরনের বই—ভ্রমণ কিংবা উপন্যাস আমাদের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে। বই আমাদের আলোর পথ দেখায় আর তা যদি হয় নন্দিত কথাসাহিত্যিক আহমেদ জামিলের লেখা বেলা অবেলার দশদিক— তাহলে তো আর কথাই থাকে না। এই বইয়ের নামকরণ ঠিক হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। পৃথিবীর অনেক কিছু চলে এসেছে এই উপন্যাসে।

৫.
স্টুডেন্ট ওয়েজ থেকে এই বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। বইটি বের হয়েছে ২০২২ সালের অমর একুশের বইমেলায়। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে তিনশত টাকা। লেখার গুণগত মান হিসেবে বইয়ের মূল্যটা তেমন বেশি নয়। বইয়ের বাঁধাই, গেটআপ-মেকআপ ভালো। ১৪২ পৃষ্ঠার এই বইটি পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে আমাদের জীবনের কথা। যৌবনের কথা। বইটি পড়লে আমাদের পাঠকদের একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলেই আমাদের ধারণা। আমরা এই বইটির বহুল প্রচার, প্রসার ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।