সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক রণজিৎ সরকার

রণজিৎ সরকার। শিশুর মতোই সদা হাস্যোজ্জল ও প্রাণবন্ত মানুষ। একাধারে তিনি গল্পকার, কবি ও উপন্যাসিক। বর্তমান সময়ের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও অন্যতম শিশুসাহিত্যিক। শিশু-কিশোর উপযোগী শিক্ষামূলক ও মজার গল্প-উপন্যাস লিখে প্রজন্মের প্রিয় লেখক হিসেবে সমাদৃত তিনি।

রণজিৎ সরকার হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক-স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হলেও লেখালেখির নেশা থেকে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক আমাদের সময়-এ সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত আছেন। ইতোপূর্বে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন দৈনিক গণকণ্ঠ, বিডিওয়েব, রাইজিংবিডি ডটকমে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি লিখে চলেছেন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ছোটকাগজ, অনলাইনসহ বিদেশি গণমাধ্যমেও।

তিনি বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কোর্স ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে প্রুফ সংশোধন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স করার সুযোগে খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তার প্রথম গল্পের বই ‘স্কুল ছুটির পর’ ২০১২ সালের বইমেলায় প্রকাশ হলে ব্যাপক সাড়া পায়। ওই মেলাতেই বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশ হয়েছিল, যা নবীন লেখক হিসেবে আলোচিত হয়।

২০২২ সালের একুশে বইমেলা পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৫ ছাড়িয়ে গেছে। তার উল্লেখ্যযোগ্য বইগুলো হলো— স্কুল ছুটির পর, স্কুল ছুটির দিনগুলি, মায়ের সাথে স্কুলে, শিশুতোষ মুক্তিযুদ্ধের গল্প, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ব, শিশুতোষ একুশের গল্প, ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের অজানা গল্প, প্রেমহীন ক্যাম্পাস, ভাষাশহিদদের গল্প, বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প, নায়িকার প্রেমে পড়েছি, পথে পাওয়া, গল্পে গল্পে জাতীয় চার নেতা, পরির সাথে দেশ ঘুরি, সূর্যশিকারি, ক্যাম্পাসের প্রিয়তমা, ভাষাশহিদ ও বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প, গল্পে গল্পে বর্ণমালা, শিশুকিশোরদের বঙ্গবন্ধু, প্রেম জলে ডুবে যাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সুমনা, প্রেমভূমির নিমন্ত্রণলিপি, গল্পে গল্পে দশরত্ন, জননীজন্ম।

রণজিৎ সরকারের বড় অর্জন কিশোর উপন্যাস ‘স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল’ লিখে অর্জন করেছেন কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার (২০২০)।

তার সবচেয়ে বড় গুণ প্রতিদিন নিয়ম করে তিনি লেখার টেবিলে বসেন, প্রচুর পড়েন এবং লেখেন। তার প্রিয় রঙ লাল। প্রিয় ফুল গোলাপ। খেতে পছন্দ করেন মায়ের হাতের যেকোনো রান্না। নিজের হাতে বানানো আলু ভর্তা দিয়ে ভাতও তার প্রিয় খাবার। অবসর সময়ে লেখক বন্ধুদের সঙ্গে সৃজনশীল আড্ডা দিতে পছন্দ করেন। সবসময় হাসিখুশি থাকতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। তার হাসির মাঝে সহজ-সরলতার প্রকাশ ঘটে। সৎভাবে জীবনযাপন করেন। শিশুদের আদর করতে ভীষণ ভালোবাসেন। তবে একা থাকতে কিছু ভাবতে আরো বেশি পছন্দ করেন এই সাহিত্যিক।

রণজিৎ সরকার ১৯৮৪ সালের ১২ মে (মঙ্গলবার) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার খোকশাহাট গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃভূমি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরাইদহ গ্রামে।
বাবা নারায়ণ সরকার ও মা শোভা সরকারের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি একমাত্র পুত্র সন্তান। ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত এই সাহিত্যিকের আজ জন্মদিন।

এ উপলক্ষে রণজিৎ সরকার বলেন, ‘লেখক সন্মানীর টাকা দিয়ে গত কয়েক বছর হলো পথশিশুদের মাঝে জন্মদিনটা কাটিয়ে দেই। তাদের ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করি। আজও বের হয়ে পথশিশু, দুস্থ ও ভিক্ষুকদের মুখে কিছুটা হলোও হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব। নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষকে ভালোবাসতে চাই। মানুষের ভালোবাসা পেতে চাই। দেশ ও দশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই সব সময়।’

লেখালেখির জগতে রণজিৎ সরকার উজ্জলতর নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন—দৈনিক কাগজ কলম পরিবারের পক্ষ থেকে এই শুভ কামনা ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।