মৃধা আলাউদিন-এর বৃষ্টিভেজা দিন

আষাঢ়ের শেষ সন্ধ্যা। কোথাও টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। কোথাও বা না। সূর্য প্রায় ডুবেই গেছে। ঠিক তখনই আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা জাফর পাঠান ঝাউগাছের আড়াল থেকে বের হয়ে এলেন। তিনি দেখলেন দুজন স্যুট-কোট পরা লোক তাদের হাতের ব্রিফকেস বদল করছে। জাফর পাঠান কোমর থেকে পকেট আর্টিলারি রিভলভার বের করে ফাঁকা আওয়াজ করতেই লোক দুজন যে যার গাড়ির দিকে ছুটতে লাগলো। কিন্তু না, কুংফু-ক্যারাতে ব্লাকবেল্ট পাওয়া জাফরের হাত থেকে অতো সহজে পার পেলো না তারা। জাফর প্রথমজনকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে দৌড়ে দ্বিতীয়জনকেও ধরে ফেললেন এবং তারাও কম না। চলছে তিনজনের মারামারি। কিলঘুষি। ব্রিফকেস পড়ে আছে সি-বিচে— অর্ধেক পানি, অর্ধেক বালুতে। জাফর পাঠান তার হাঁটু ও কনুইয়ের আঘাতে এবং লোক দুটোর অতীব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত করে খুব দ্রুতই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করলেন। খুব বেশি সময় না, জাফর তার সৃজনশীল ও নান্দনিক প্রচেষ্টায় এ কাজটি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মাত্র পাঁচ/সাত মিনিটের মধ্যে ব্রিফকেসওয়ালা দুজনকে ধরাশায়ী করে ব্রিফকেস নিয়ে আবার ঘাউগাছের আড়ালে চলে গেলেন। চলে গেলেন মার্শাল আর্টের একজন গভীরতম দার্শনিক। যিনি বর্তমানে নিজেকে মানবসেবায় নিবেদিত করেছেন।
তখনও সূর্যডোবা অন্ধকারে কিছু কিছু পাখি নীড়ে ফিরে যাচ্ছে। যাচ্ছে গাংচিল ও বালিহাঁস। অনেক দূরে, যেখানে লোকালয়— সেখানে শুধু মানুষের আবছায়া দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে দুএকজন কপোত-কপোতি। সাগরে ভাসছে বড়ো বড়ো জাহাজ, সাম্পান, ময়ূরপঙ্খী, ডিঙি ও ছোটো-বড়ো অনেক পানসি।

২.
(একটি আইটম গান কালু পাণ্ডা ও রোহিঙ্গা ঝিনুক দুজায়গা থেকে দুজন উপভোগ করতে থাকবে)
কালু পাণ্ডা ও রোহিঙ্গা ঝিনুক যে যার জায়গা থেকে চিৎকার দিয়ে উঠলো। তাদের জলজ্যান্ত দুজন লোক মারা গেলো। যারা ছিলো তাদের ডান হাত। তারা জাফর পাঠান, জাফর পাঠান বলে চিৎকার করতে থাকলো এবং তারা যে যার মতো করে সরিয়ে দিলো তাদের হাত-পা, মাথা টেপা প্রায় অর্ধ নগ্ন দুজন কয়েকজন নারীকে। কালু পাণ্ডা ছিলো তার মাটির নিচের রাজ প্রাসাদে। নরম মখমলের বিছানায়। নিয়ন বাতির নিচে। আর রোহিঙ্গা ঝিনুক ছিলো তার বরফগলা প্রাসাদে। যা দিনে কয়েকবার বদলাতে হয়। ভাঙতে হয় বরফের পাহাড়। আবার গড়তে হয় বরফের প্রাসাদ। তারা হাত থেকে ব্লাক ওয়াইনের গ্লাস ফেলে দিলো। বললো, রোহিঙ্গা ঝিনুক তার দলের আরেক গুণ্ডা গাঙ্গুয়াকে, রিঙ্কু পাইনকে খবর দে। জি ওস্তাদ, মাথা নিচু করে বললো, আমি এখুনি যাচ্ছি। ঠিক একইভাবে পাশে থাকা আরেকটি মেয়ের পিঠের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে হুঙ্কার দিয়ে কালাপানি বললো, ডন!
জি বস!
কালাপানিকে খবর দে।
আজ রাতেই কালা পানি আপনার সামনে হাজির হবে, বললো ডন।

৩.
একটা মস্ত বড়ো দিঘির কালো পানির ভেতর থেকে সম্পূর্ণ পানিকে নাড়িয়ে দিয়ে উঠে আসলো কালাপানি। ডন মাথা নিচু করে বললো, বস আপনাকে স্মরণ করেছেন।
কেনো? আবার কাকে মারতে হবে?
কালাপানির স্বাভাবিক উত্তর— জি, বসই আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন। আস্তে আস্তে পানির ভেতর থেকে উঠে আসলো কালাপানি।
গাঙ্গুয়া যখন রিঙ্কু পাইনের আস্তানায় গেলো, সে দেখলো রিঙ্কু একজন বৃদ্ধ লোকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার ঢাকার খিলক্ষেতের বাড়ির দলিল তার নিজের নামে লিখে দিতে বলছে। বৃদ্ধ বলছেন, আমাকে মেরে ফেল শয়তান। তবুও আমি আমার বাড়ির দলিল তোর নামে লিখে দেবো না। বলেই এক দলা থুতু রিঙ্কুর গালে নিক্ষেপ করেন বৃদ্ধ লোকটি। টিসু দিয়ে থুতু মুছতে মুছতে রিঙ্কু হালকা একটু বিরক্তি হলো। বিরক্তির ছাপ চেহারায় ফুটিয়ে তুলে বললো, এই তোর কথা! তবে শোন, তোর মেয়েকে আমি কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো। শেয়াল-শকুন ছিঁড়ে খাবে তোর মেয়েকে। ঠিক এমন সময় গাঙ্গুয়া রিঙ্কুর কেরোসিন-ডিজেলের আস্তানায় প্রবেশ করলো। গাঙ্গুয়াকে দেখে রিঙ্কু অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো। বললো, ওই দেখ শয়তান বৃদ্ধ! আমার টাকার পাহাড় চলে এসেছে। বলো গাঙ্গুয়া— রিঙ্কুর স্বাভাবিক কণ্ঠ— আজ আবার কাকে খুন করতে হবে? জি, এমন একট কাজের জন্যই এসেছি। তবে আজ আমি কিছুই বলবো না। যা বলার বস বলবেন, আপনি এখন আমার সাথে চলুন।
হুম, চলো। হুইস্কির বোতলটা উল্টো দিকে ঢিল মেরে দুজন সামনে হাঁটতে থাকলো। যেনো তাদের ডান নেই। বাম নই। তারা দিশাহারা।

৪.
ঋতুতে শরৎকাল এসে গেছে। ঢাকায় শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা ছাড়া তেমন কিছু বোঝা যায় না। গ্রামাঞ্চলে এখন কাঁশফুল, পদ্ম, শাপলাসহ কতো রকমের ফুল ফুটে আছে। এখানে তার কিছুই নেই। ঢাকায় শুধু আকাশে শাদা শাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। রাতে কোথাও কোথাও হালকা জলের ছিঁটেফোটা পড়ে— যা মানুষ সকালে দেখতে পায়। এখানে এখন আকাশে শাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। জাফর পাঠান হোটেল শাকুরার পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে রমনায় গিয়ে উঠবে। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ ব্যায়াম করবেন। তারপর বাসায় ফিরে দুপুরে টঙ্গীতে কবুতরের হাটে যাবেন। আজ তিনি কিনবেন এক জোড়া কালো কিং কবুতর। বাসায় তার শাদা ও লাল কিং আছে। রাস্তা পার হওয়ার জন্য প্রথম ডান পা দিতে না দিতেই পেছন থেকে তার হাত টেনে ধরলো ঝরনা। বললো, কোথাও যাও?
আমি কোথায় যাই সে পরে বলছি। তার আগে বলো, তুমি এখানে কেনো? তুমি কোথায় যাচ্ছো?
বলছি, বলেই টানতে টানতে জাফর পাঠানকে শাকুরার দিকে নিয়ে গেলো ঝরনা। যেতে যেতে বললো, আমি কিছু পিতলের প্লেট-বাটি কিনবো। যা স্রেফ সাজিয়ে রাখবো। একটু থেমে, একগাল হেসে ঝরনা আবার বললো, যেদিন আমার বাড়িতে আমার বর আসবেন। সেদিন তাকে এই প্লেট-বাটিতে খাবার পরিবেশন করবো।
তাহলে, বললেন জাফর পাঠান— এরই মধ্যে তোমার বরও জুটে গেছে?
না জুটলেও জুটে যাবে।
তোমার বর দেখতে কেমন হবে? কিছুটা হাসতে হাসতেই বললেন জাফর পাঠান।
অনেকটা তোমার মতো। স্বাভাবিক কণ্ঠ ঝরনার।
আমার মতো? অধিক আশ্চর্য হলেন জাফর পাঠান।
হুম, তোমার মতো।
আমি না তো? মিষ্টি কণ্ঠ জাফর পাঠানের।
আমার বয়েই গেছে তোমার মতো গুণ্ডা মার্কা, মারামারি করা, কুংফু-ক্যারাত জানা একটা লোককে আমি বর বানাই এবং ঝরনা বকবক করতে করতে জাফর পাঠানের হাত ছেড়ে দিয়ে দুজনেই একটা দোকানে ঢুকলেন। তারপর তারা দুজন কিছু পিতলের প্লেট-বাটি ও খেলনা কিনলেন। তারমধ্যে কিছু বেবিও ছিল। জাফর পাঠান দোকানিকে বললেন, এগুলো প্যাকেট করে এখানেই রাখুন। আমরা ঘণ্টাখানিক পরে এসে নিয়ে যাবো। দোকানি মিষ্টি করে হেসে বললেন, জি স্যার, আমি সবকিছু প্যাকেট করে রাখছি। জাফর পাঠানরা দোকান থেকে বের হয়ে একটা ফার্স্টফুটের দোকানে ঢুকলেন। তারপর রমনায়…
(এখানে একটা গান হবে। প্রেমের গান। গানে অনেক পোশাক বদলাবে এবং ঘুরবে দেশ-বিদেশ)

৫.
নিউ মার্কেটে টোকাই মুরগির গুণ্ডাপাণ্ডা ফুটপাতের হকারদের থেকে জোর-জুলুম করে চাঁদা তুলছে। যে দিতে দেরি করছে এবং অপারগতা প্রকাশ করছেন তাদেরই টোকাই মুরগির গুণ্ডাপাণ্ডা মেরে রক্তাক্ত করছে। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছে অন্যদিকে। এ দৃশ্য দেখে জাফর পাঠানের মাথায় রক্ত উঠে গেলো। তিনি প্রথমে দুজন পুলিশকে বললেন, ওই গুণ্ডাগুলো ওদের মারছে। প্লিজ, আপনারা একটা কিছু করুন। না ভাই, ওদের হাত বড়ো লম্বা। আমলা-নেতা পর্যন্ত। আমরা ওদের কিছু বলতে পারবো না। বলেই পুলিশ দুজন অন্য দিকে হেঁটে চলে গেলো। জাফর পাঠান ভাবলেন, কাল আবার কক্সবাজার যেতে হবে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটা বড়ো চালান আসবে দুএকদিনের মধ্যে। যা ফেরানোর ভার তার কাঁধে এসেছে। র‌্যাব-১ এর হেড কোয়ার্টার থেকে র‌্যাবের সাথে এক হয়ে কাজ করার জন্য কোয়ার্টার থেকেই তার কাছে ফোন এসেছে। প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ইয়াবা সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে। যা রোধ করতেই হবে। আজ এ ঠুনকো কাজে হাত জড়াতে চান না জাফর পাঠান। কিš না, এখানেও দশ-বারোটা সণ্ডাপাণ্ডাকে একাই মেরে মাটিতে শুইয়ে দিলেন জাফর পাঠান। ফুটপাথের লোকজন এসে তাকে সালাম জানালেন। বললেন, ভাই, আজ আপনি আমাদের বাঁচালেন। কাল কি হবে? মুরব্বিগোছের একজন এসে বললেন, আমরা যেনো চিরদিনের জন্য ওদের হাত থেকে বেঁচে যাই। এই কাজ করো বাবা। এই কাজ…

৬.
আজ ঝরনার জন্মদিন। ঝরনার মা-বাবা বাংলা পৌষ মাসটাকেই বেশি মনে রাখেন। তারা এই পৗষ মাসের দুই তারিখ ঝরনার জন্মদিন পালন করেন। আজ সেই দিন। জাফর পাঠান একটি হিরের আংটি, দামি সালোয়ার-কামিজ, লাল দোপাট্টা ও কেকের সাথে ফিরনি-পায়েস ও বিস্কুট-চানাচুর নিতেও ভুল করলেন না। আর প্রতিবছরই জাফর পাঠানের মা নিজের হাতে ছেলেকে গুছিয়ে দেন। দুবার তিনি নিজেও ঝরনার জন্মদিনে গেছেন। আজ শরীরটা ভালো নেই। তাই তিনি যাবেন না। জাফর পাঠান একাই গেলেন ঝরনার জন্মদিনে। দেশি-বিদেশি অনেক অতিথি এসেছেন ঝরনাদের বাড়িতে। ঝরনার বাবা দেশের প্রথম শ্রেণির একজন বিজনেস ম্যাগনেট। তার অনেক বন্ধু-বান্ধব সস্ত্রীক এসেছেন। ছেটো-বড়ো ভাইবোনের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন— অনেক লোকজন এসেছেন আজ ঝরনাদের বাড়িতে। অনেক খানাপিনা, আনন্দ-ফূর্তি— গান-বাজনা। শেষ পর্যন্ত জাফর পাঠানকেও গান গাইতে হলো। জাফর পাঠান একটি বর্ষার গান, একটি বৃষ্টির গান—একটি তুমুল প্রেমের গান গাইলেন। গানের সাথে ঝরনা ও তার বান্ধবীরা নাচ করলেন। আজ জাফর পাঠানের অনেক রাত হলো বাড়ি ফিরতে ফিরতে।

৭.
মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাঁচ কোটি টাকার চালানটা ধরতে জাফর পাঠানের বড়ো অবদান আছে। তিনি সরকারের সাথে একাট্টা হয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ইয়াবার এই বড়ো চালানটা ধরা পড়ায় কালু পাণ্ডা ও রোহিঙ্গা ঝিনুকের বড়ো ধরনের ক্ষতি হয়ে গেলো এবং তারা এবার পণ করলো, যেভাবেই হোক— এই জাফর পাঠানকে দুনিয়া থেকে চিরদিরেন জন্য বিদায় করবে। তার বংশ নির্বংশ করতে হবে। সেই মতো তারা জাফর পাঠানের পথ প্রায়ই রোধ করে আর ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। কিš আর নয়— এবার তারা দলবলে, গুণ্ডাপাণ্ডা— কালাপানি ও রিঙ্কু পাইনসহ অ্যাটাক করলো জাফর পাঠানকে। তারা জাফর পাঠানকে অ্যাটাক করলো পূর্বাচলের একটা বিরান ভূমিতে। জাফর পাঠান পূর্বাচল গিয়েছিলেন তার ওস্তাদ আরেকজন ব্ল্যাকবেল্টপ্রাপ্ত জ্যাকিচানের বাড়িতে। তারা দুজন গল্প করতে করতে তিনশ ফিট পর্যন্ত আসবেন এটাই তাদের প্ল্যান ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে কালু পাণ্ডা ও রোহিঙ্গা ঝিনুকের হামলা। তাদের ধারণা ছিলো জাফর পাঠান আজ একা ফিরছেন। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে গেলো। দুজন পুশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্ল্যাকবেল্টখ্যাত জাফর পাঠান ও জ্যাকিচানের হাঁটু এবং কনুইয়ের আঘাতে মৃত্যু হলো কালাপানির। তবে এ কথা সত্য, কালাপানির মৃত্যু হয়েছে গাঙ্গুয়ার গুলিতে। সে জাফর পাঠানকে গুলি করতে যায় যা কৌশল করে জাফর পাঠান কালাপানির গায়ে নিশ্চিত করেন। তারপর যখন রোহিঙ্গা ঝিনুক জ্যাকিচানকে গুলি করতে যায়, তখন জাফর পাঠান রোহিঙ্গা ঝিনুকের গায়ে সরাসরি মাথায় গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং তিনি এটা করেন তার সৃজনশীল ও মার্শাল আর্টের নান্দনিক দক্ষতায় এ কাজটি করতে সক্ষম হয়েছেন। কালাপানি ও রোহিঙ্গা ঝিনুকের মৃত্যু দেখে তাদের অন্য সমস্ত গুণ্ডাপাণ্ডা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু না, ততক্ষণে এখানে র‌্যাব ও পুলিশ এসে পৌঁছায়। তাদের সহায়তার সেদিন একজন গুণ্ডা, ভাগাড়ে ডাকাতও পালাতে পারেনি। তাদের সদলবলে আটক করে বাংলাদেশ র‌্যাব ও পুলিশের একটি চৌকশ দল…

৮.
বাংলাদেশ সরকার জাফর পাঠানকে সেদিন স্যালুট দিলেও আইনের … ধারায় রোহিঙ্গা ঝিনুককে সরাসরি গুলি করে মৃত্য নিশ্চিত করায় তাকে আটক করে। তিন বছর জেল হয়। তাকে জেলে যেতে হয়। জেল খেটে বের হয়ে জাফর পাঠান শোনেন— তার মা-বাবা আর বেঁচে নেই। তখন তিনি ঝরনাকে খুঁজতে তাদের বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে শোনেন ঝরনার গত এক বছর হলো বাবার বিজনেস পার্টনারের এক দুশ্চরিত্র ছেলে রায়হানের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে এবং সে সেখানে এখন মোটেও সুখী নয়। গভীর রাতে ঝরনায় কান্নায় নদী হয়ে যায় তার চোখের চারপাশ। জাফর পাঠান ঝরনার সাথে দেখা করতে চায় কিন্তু ঝরনা দেখা করে না। জাফর পাঠান এখন বাউলে বেশে সারাদেশে আবার ঘুরে ঘুরে গান গায়। বাউল, পীর-ফকিরের আস্তানায় যায়। তাদের সঙ্গ দেয়। গান শোনে। বারবার তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝরনার আদরমাখা, মিষ্টি-মধুর মুখ। উচ্ছ্বল নারী ও নদীর মুখ। (এখানে একটি বাউলের গান থাকবে। গানে শুধু বাউল ও জাফার পাঠানকেই দেখানো হবে। তারা বন-জঙ্গল, হাট-বাজার, শহর ও রাস্তায় রাস্ত ঘুরে বেড়ায়। ব্যথার গান গায়। পানিতে নামে। রোদে পোড়ে। আবার বৃষ্টিতে ভজে) জাফর পাঠান বৃষ্টিতে ভেজে। আষাঢ়ের আষাঢ়স্য বৃষ্টি…

[লেখক : মৃধা আলাউদ্দিন
কবি, কথাশিল্পী ও সাহিত্য সমালোচক]

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।