রোহিঙ্গা হালচাল

কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলে প্রায় আট লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বসবাস করে। তারা আমাদের দেশে আশ্রিত। থাকার জন্য একটি ঘর আছে। খাওয়া দাওয়ার জন্য ত্রাণ সাহায্য পায়। আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদার অফ হিউম্যানিটি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন বলেই তারা থাকতে পারছে। তাদের জাতিগত স্বকীয়তা, আচার-আচরণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনেক অবহেলিত। তাদের মধ্যে অনেকেই আছে মাদক সন্ত্রাসে যুক্ত। অনেকেই চুরি-ডাকাতি খুনসহ অনেক অপরাধ করে থাকে। জীবনের স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলে মাতৃভূমির একটি বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রিত আছে। এ কারণে হয়তো তারা স্বাভাবিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে হতাশ। আর তা থেকেই অপরাধে জড়িত। মাদক সন্ত্রাস ধর্ষণ চুরি ডাকাতি মানব পাচার তাদের প্রধান অপরাধ।

তাদের কেউ কেউ চোখে মুখে মিথ্যা কথা বলে। কেউ কেউ সামনে হত্যার ঘটনা ঘটলে বলে ন জানি। এমত অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা তাদের সহযোগিতা করছে। উখিয়া থানার মধ্যে রোহিঙ্গাদের বসবাস বেশি। তারা একই ঘরে চার থেকে পাঁচজন বসবাস করে। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে মোটামুটি।কক্সবাজারের তাপমাত্রা এবং সমুদ্র সৈকতের তীরে হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এখানে করোনার উপদ্রব কম হওয়া বাঞ্ছনীয়।

সে তুলনায় কমই আছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনা বিস্তার করে নাই বললেই চলে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে সাধারণত পালিয়ে বেড়ানোর প্রবণতা বেশি। করোনা নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো উচিত নয়। নিজের দেশ হারিয়ে প্রতিবেশী দেশের কাছে আশ্রিত আছে। খাবার দাবার অন্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সাহায্য পায় প্রচুর। তারপরও তারা অনেকাংশই অপরাধী হয়ে উঠছে। সেগুলো দেখভাল করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথেই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছে। আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একজন শরণার্থীর করোনা শনাক্তের সংবাদ পাওয়া গেছে। তাকে আইসোলেশন করা হয়েছে। প্রতিটি রোহিঙ্গার সতর্ক হওয়া জরুরি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বিচরণ শুধু নেই। আছে পুলিশসহ অনেক আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ,দেশি-বিদেশি অনেক এনজিও। সে সব মিলে অনেক মানুষ।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নেই বলতে কিছুই নেই। তার উপর আক্রান্ত হয়ে যদি মহামারীতে জীবন যায় এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি আছে। রোহিঙ্গা নিরাপত্তায় আমরা কাজ করি। প্রতিদিন চোখের সামনে তাদের অবস্থান দেখি। তাদের মুখের প্রতিচ্ছবি দেখি। একসময় নিজের মুখের প্রতিচ্ছবি ও দেখি। ক্যাম্পের ভিতরে তাদের অবস্থান তাদের জীবনযাত্রা ,তাদের ইতিহাস কোন কোন পরিবারের মায়ানমারের অবস্থা শুনলে অবাক লাগে। খারাপ লাগে ‌ সেই অবস্থান থেকে অনুমান করছি ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ দেখা দিলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। একজন করোনা সনাক্ত হয়েছে। এখনই সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা প্রতিরোধ হোক। সেই আশা ও প্রার্থনা ব্যক্ত করছি।

কাগজকলম/জাহিদ

dailykagojkolom.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।